নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক বাসা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং সদস্য সচিব ও উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদেরকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (আইন) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
আবাসন নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ইসতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং সদস্য সচিব ও উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের কাছে নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাসা বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে নীতিমালা সংশোধন বা স্বতন্ত্র বাসভবন সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় দেশের আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির অন্যান্য সদস্যসহ গত ৮ মার্চ এক সভায় বেআইনীভাবে পয়েন্টের দিক থেকে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র একজনকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের "আবাসন বরাদ্দ নীতিমালা-২০১৬" এর ধারা ০৮(ক) ও (খ) অনুযায়ী, মূল বেতন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যিনি এগিয়ে থাকবেন, তিনি বাসা বরাদ্দপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্য হবেন। তবে অভিযোগকারী কর্মকর্তা যিনি এই পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন, তার স্থলে পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা একজনকে পক্ষপাতপূর্ণভাবে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যম্পাসে থাকতে হয়। অনেক সময় রাত পর্যন্ত কাজ শেষে বাসায় ফিরতে হয়। তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের পরও বাসা বরাদ্দ পাননি।
মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাসা বরাদ্দের মিটিং কখন হয়েছে জানতাম না। পরে শুনেছি ওই দিন ২টা বাজে মিটিং হয়েছে যেন কেউ জানতে না পারে। বাসাগুলো মিটিং ছাড়াই দেওয়া হয়েছে এবং পরে নামমাত্র মিটিং দেখানো হয়েছে। আমার পরিবর্তে যে ব্যক্তি বাসা পেয়েছেন, তিনি আমার থেকে ৬-৭ বছর পরে যোগদান করেছেন। আমি ৪৩ হাজার স্কেলে আছি, আর তিনি ৩৫ হাজারে। মনে হয়েছে, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলের লোকদের সুবিধার্থে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
প্রাথমিক খোঁজে জানা গেছে, মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে না দিয়ে সেই বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু নীল দলের দপ্তর সম্পাদক সোয়াইব মাহমুদ। ৫ আগস্ট তিনি বিদ্রোহী হলের হাউজ টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাসা বরাদ্দ নীতিমালায় হাউস টিউটরদের জন্য বিশেষ কোনো অগ্রাধিকার উল্লেখ নেই। সোয়াইব মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে আবেদন করেছি। আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমি জানি না আসলে আর কে কে আবেদন করেছে। আমি হাউস টিউটর হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করেছি। কমিটির সদস্যরা বলতে পারবেন কেন আমাকে বাসা দেওয়া হয়েছে।